আইসিসি নারী বিশ্বকাপ ২০২৫–এ ফলহীনভাবে শেষ হয়েছে বাংলাদেশের যাত্রা। রোববার লিগ পর্বের শেষ দিনে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হয়। তবে বৃষ্টি না এলে বাংলাদেশের হার প্রায় নিশ্চিত ছিল, কারণ ১২৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভারত তখন বিনা উইকেটে ৫৭ রান তুলে ফেলেছিল। শেষ পর্যন্ত খেলা পণ্ড হয়ে এক পয়েন্ট ভাগাভাগি করতে হয়েছে দুই দলকে। এতে টুর্নামেন্টের পয়েন্ট তালিকায় বাংলাদেশ এক ধাপ ওপরে উঠে সপ্তম স্থানে থেকে আসর শেষ করেছে।
৮ দল নিয়ে গত ৩০ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া নারী বিশ্বকাপের লিগ পর্বের শেষ ম্যাচ ছিল বাংলাদেশ–ভারত দ্বৈরথ। পয়েন্ট ভাগাভাগির পর বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের পয়েন্ট সমান ৩ হলেও জয়সংখ্যার ব্যবধানে পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে থেকে সপ্তম স্থানে থাকে বাংলাদেশ। কারণ, বাংলাদেশের একমাত্র জয় এসেছে পাকিস্তানের বিপক্ষে।
বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পারফরম্যান্সের চিত্র পয়েন্ট তালিকাই স্পষ্ট করে দিয়েছে। তবে সংখ্যার পেছনে আছে এক বাস্তব গল্প—প্রস্তুতির ঘাটতি, সীমিত সুযোগ এবং প্রত্যাশার বোঝা।
বিশ্বকাপ শুরুর আগে কোচ সারওয়ার ইমরান বলেছিলেন, ‘আমাদের পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ভালো সুযোগ আছে। প্রতিটি ম্যাচেই জেতার লক্ষ্য নিয়ে খেলব।’ অধিনায়ক নিগার সুলতানাও আশাবাদী ছিলেন, যদিও প্রস্তুতির অভাব নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।
বিশ্বকাপের আগে দীর্ঘ সময় কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ না খেলে মাঠে নামে বাংলাদেশ দল। তবু শুরুটা ছিল আশাব্যঞ্জক—২ অক্টোবর কলম্বোয় পাকিস্তানের বিপক্ষে ৭ উইকেটের জয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করে নিগাররা। মারুফা আক্তারের দুর্দান্ত ইনসুইঙ্গারে পাকিস্তানের দুই উইকেট তুলে নেওয়া ও তাঁর আগুনে বোলিংয়ে বাংলাদেশ জয় পায় ১১৩ বল হাতে রেখে।
প্রথম ম্যাচের সেই জয়ই ছিল বাংলাদেশের একমাত্র সান্ত্বনা। পরের ম্যাচগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও জয় আসেনি। তবু প্রথম জয়ের স্মৃতি আর মারুফার আলোচনায় থাকা পারফরম্যান্স বিশ্বকাপে বাংলাদেশের মেয়েদের লড়াকু মনোভাবের প্রতিচ্ছবি হয়ে থাকবে।
