মার্কিন–চীন বাণিজ্যযুদ্ধের অবসান এখনো দৃশ্যমান নয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা চালালেও চীন কার্যত নিজস্ব কৌশলে এগোচ্ছে, আর এতে বিশ্ববাণিজ্যে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করছে।
দক্ষিণ কোরিয়ায় চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প চীনা পণ্যের ওপর আরোপিত শুল্ক ১০ শতাংশীয় পয়েন্ট কমাতে সম্মত হন। বিনিময়ে বেইজিং যুক্তরাষ্ট্রে ফেন্টানিল পাচার দমনে পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। তবু কার্যকর গড় শুল্কহার এখনো ৪৭ শতাংশে রয়ে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি কমলেও চীন বিকল্প বাজারে দ্রুত ঘুরে দাঁড়িয়েছে। গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চীনের মোট রপ্তানি বেড়েছে ৬ দশমিক ১ শতাংশ, আর শুধু সেপ্টেম্বরে রপ্তানি বৃদ্ধি পেয়েছে ৮ দশমিক ৩ শতাংশ। আমেরিকার বিকল্প হিসেবে চীন এখন দক্ষিণ আমেরিকা, আফ্রিকা ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাজারে নিজেদের পণ্য বিক্রি বাড়াচ্ছে।
উদাহরণস্বরূপ, সয়াবিন আমদানিতে যুক্তরাষ্ট্রকে বাদ দিয়ে চীন এখন ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার দিকে ঝুঁকেছে। সেপ্টেম্বরে দেশটি যুক্তরাষ্ট্র থেকে এক দানাও সয়াবিন আমদানি করেনি, বরং আর্জেন্টিনা থেকে প্রায় ১২ লাখ মেট্রিক টন কিনেছে। একইভাবে গরুর মাংস আমদানিতেও যুক্তরাষ্ট্রের বদলে অস্ট্রেলিয়া ও আর্জেন্টিনাকে বেছে নিচ্ছে বেইজিং।
চীনের এই নীতি স্পষ্টভাবে দেখায় যে তারা শুধু শুল্কযুদ্ধ নয়, বরং সরবরাহ চেইনের পুনর্গঠনেও এগিয়ে যাচ্ছে। আমেরিকান পণ্যের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে চীন বিকল্প বাণিজ্য অংশীদার তৈরি করছে, যা তাকে বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় আরও শক্ত অবস্থানে নিয়ে যাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন শুল্ক নীতিতে বারবার ছাড় দিলেও চীনের দূরদর্শী কৌশলই তাকে এই বাণিজ্যযুদ্ধে এগিয়ে রাখছে।
