অস্কার রিকেট
প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৫, ১৪:২৩
সুদানের গৃহযুদ্ধে এখন পর্যন্ত ১ কোটি ৩০ লাখেরও বেশি মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়েছেন। উত্তর দারফুরের রাজধানী এল-ফাশের শহরে সংযুক্ত আরব আমিরাত–সমর্থিত আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) দখল নেওয়ার পর সেখানে ভয়াবহ গণহত্যার ঘটনা ঘটছে। অথচ পশ্চিমা বিশ্ব এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
আরএসএফ ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানের সরকারি সেনাবাহিনী (এসএএফ)-এর সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর আগাম সতর্কতা সত্ত্বেও এল-ফাশের শহরে গণহত্যা রোধে কোনো আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ৫০০ দিনের অবরোধের মধ্যে শহরটি পরিণত হয়েছে এক মৃত্যুকূপে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই ভয়াবহ পরিস্থিতির পেছনে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রত্যক্ষ ভূমিকা রয়েছে। দেশটি প্রকাশ্যে অস্বীকার করলেও বাস্তবে আরএসএফকে অস্ত্র, অর্থ, রসদ ও কূটনৈতিক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। নিয়ালা ও আল-মালহায় আমিরাতের সামরিক ঘাঁটি ছাড়াও সোমালিয়া, লিবিয়া ও উগান্ডা থেকে তাদের সরবরাহ চলছে।
আরএসএফ প্রধান মোহামেদ হামদান দাগালো (হেমেদতি) আরব আমিরাতকে সুদানের সোনাখনি ও কৌশলগত অঞ্চলগুলোর প্রবেশাধিকার দিয়েছেন। এতে করে আমিরাত সুদানের কৃষিজমি, উপকূল ও খনিজ সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করছে।
২০১৯ সালের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ওমর আল–বাশির পতনের পর যে পরিবর্তনের আশা দেখা দিয়েছিল, সেটি এই যুদ্ধ ধ্বংস করে দিয়েছে। তবুও যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মতো পশ্চিমা দেশগুলো আমিরাতের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। ফলে যুদ্ধ, গণহত্যা ও বাস্তুচ্যুতি অব্যাহত রয়েছে।