অভিজাত এলাকাগুলোর নামীদামি রেস্টুরেন্টগুলো বলছে, ফুটপাত দখল করে ভ্রাম্যমাণ দোকান বসানোর কারণে তারা এখন লোকসানে পড়েছে। জলেশ্বরীতলা ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এমদাদ আহমেদ বলেন, ‘একটি বৈধ রেস্টুরেন্ট চালাতে লাখ লাখ টাকা বিনিয়োগ, নানা দপ্তর থেকে অনুমোদন ও নিয়মিত নবায়ন ফি দিতে হয়। অথচ রাস্তার পাশে ৪০-৫০ হাজার টাকায় দোকান বসিয়ে কোনো অনুমোদন ছাড়াই ব্যবসা চলছে।’
বগুড়া হোটেল মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এসএম দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমরা স্ট্রিট ফুডের বিপক্ষে নই, তবে এগুলো যেন অভিজাত এলাকার বাইরে নির্দিষ্ট স্থানে বসে, সেটি আমরা চাই।’
শহরজুড়ে দখল, যানজটে ভোগান্তি
চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সামনে, পৌরসভা লেন, জেলা খানা মোড়, মহিলা ক্লাব মোড়, সাতমাথা-সার্কিট হাউস সড়কসহ শহরের বিভিন্ন সড়কে প্রতিদিন বসছে শতাধিক দোকান। এতে দিন-রাত লেগেই থাকে যানজট।
‘জিভে জল’ রেস্টুরেন্টের পরিচালক ফয়সাল চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের রেস্টুরেন্টে নিয়মিত ভোক্তা অধিকার ও খাদ্য কর্তৃপক্ষ অভিযান চালালেও রাস্তায় বসা দোকানগুলোতে কেউ নজর দেয় না। পোড়া তেল ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার বিক্রি হচ্ছে।’
বগুড়া পৌরসভার প্রশাসক মাসুম আলী বেগ জানান, ফুটপাত ও সড়ক দখলই শহরের যানজটের বড় কারণ। ‘আমরা নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযান চালাই, কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই দোকানিরা আবার বসে যায়,’ বলেন তিনি।
কোটি টাকার চাঁদাবাজির অভিযোগ
পৌরসভার সাবেক প্যানেল মেয়র আমিনুল ফরিদ বলেন, ‘এসব দোকান বসানোর পেছনে কোটি টাকার চাঁদাবাজি চলছে। প্রশাসন চাইলে একদিনেই এগুলো সরানো সম্ভব।’
শহরের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন প্রায় এক হাজার অস্থায়ী দোকান বসে, যেখানে প্রতিদিন দোকানপ্রতি ১০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা তোলা হয়। বছরে এই অঙ্ক দাঁড়ায় কয়েক কোটি টাকায়। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও প্রশাসনিক সূত্রে জানা যায়, এ টাকার ভাগ যায় রাজনৈতিক নেতা, পৌরসভার কিছু কর্মচারী ও পুলিশের কাছে।
তবে সদর ফাঁড়ির পুলিশ পরিদর্শক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘পুলিশ এসব দোকান থেকে কোনো চাঁদা তোলে না। কেউ পুলিশের নাম ভাঙিয়ে চাঁদা তুললে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ট্রাফিক পরিদর্শক সালেকুজ্জামান বলেন, ‘ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে আমরা নিয়মিত অভিযান চালাই, কিন্তু দোকানিরা আবার বসে পড়ে।’