
পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা সামাল দিতে দ্রুত আমদানির অনুমতি দেওয়ার সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন (বিটিটিসি)। কমিশন জানায়, প্রতি কেজি পেঁয়াজের খুচরা দাম ১১০ থেকে ১২০ টাকায় উঠেছে, যা স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে অনেক বেশি। প্রতিবছর অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে পেঁয়াজের দাম বাড়ার প্রবণতা থাকলেও এবার বাজারে মধ্যস্বত্বভোগীদের কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগ উঠেছে।
গত বৃহস্পতিবার বাণিজ্যসচিব ও কৃষিসচিবকে পাঠানো চিঠিতে সীমিত পরিমাণে দ্রুত আমদানির অনুমতি দিতে অনুরোধ জানায় ট্যারিফ কমিশন। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মইনুল খান বলেন, স্বাভাবিক সময়ে এই দাম ৯০ টাকার মধ্যে থাকার কথা, কিন্তু বাজারে এখন তা ১১৫ টাকার ওপরে বিক্রি হচ্ছে। অথচ প্রতিবেশী দেশগুলোতে একই সময়ে পেঁয়াজের দাম প্রায় ৩০ টাকার মধ্যে।
বাংলাদেশের পেঁয়াজ আমদানির প্রধান উৎস ভারত, যেখান থেকে আসে মোট আমদানির প্রায় ৯৯ শতাংশ। তুরস্ক, পাকিস্তান, মিয়ানমার, চীন ও মিসর থেকেও কিছু পেঁয়াজ আসে। বর্তমানে পেঁয়াজ আমদানিতে ১০ শতাংশ শুল্ককর প্রযোজ্য।
ট্যারিফ কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পেঁয়াজের বাড়তি দামের ফলে লাভবান হচ্ছেন না কৃষক; বরং মধ্যস্বত্বভোগীরা সুবিধা নিচ্ছেন। তাই বৈধ আমদানির সুযোগ দিলে বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়বে এবং ভোক্তারা যৌক্তিক দামে পণ্যটি কিনতে পারবেন।
গত অর্থবছরে দেশে ৪৪ লাখ ৪৮ হাজার টন পেঁয়াজ উৎপাদিত হলেও সংরক্ষণ সংকট ও নষ্ট হওয়ার কারণে বাজারে আসে মাত্র ৩৩ লাখ টন। গত অর্থবছরে আমদানিও হয়েছে প্রায় ৪ লাখ ৮৩ হাজার টন।