
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জেলা প্রশাসক (ডিসি) নিয়োগে কঠোর অবস্থান রাখতে ব্যর্থ হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। আগের তিনটি জাতীয় নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের নতুন নির্বাচনে রাখা হবে না—এ ঘোষণার পরও শেষ পর্যন্ত এই নীতি কার্যকর করা যায়নি। ফলে দুজন এমন কর্মকর্তাকেও ডিসি পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যারা আগের নির্বাচনে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার (এআরও) দায়িত্বে ছিলেন।
এছাড়া দুইজন কর্মকর্তাকে ডিসি পদে প্রমার্জনা করে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যাঁরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) বা স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক পদে পুরো দুই বছর দায়িত্ব পালন করেননি। ২০২২ সালে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় প্রণীত পদায়ন নীতিমালায় বলা হয়েছে, ডিসি পদে নিয়োগের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উল্লিখিত পদে দুই বছরের পূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে হবে।
নির্বাচনের সময় সাধারণত ডিসিরাই রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু আগের তিনটি নির্বাচনে এআরও হিসেবে দায়িত্ব পালনকারীদের বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের কারণে সরকার যোগ্য ডিসি খুঁজে পেতে সমস্যা মুখোমুখি হয়।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গত শনিবার ও রোববার দুই দিনে দেশের ২৯ জেলায় নতুন ডিসি পদায়ন করা হয়েছে। এর মধ্যে শনিবার ১৫ জেলায়, রোববার ১৪ জেলায় পদায়ন হয়েছে। নতুন পদায়নের মধ্যে ২১ কর্মকর্তার জন্য ডিসি পদ সম্পূর্ণ নতুন, বাকি আটজনের জেলা পরিবর্তন করা হয়েছে।
জনপ্রশাসন কর্মকর্তারা মত দেন, এই শর্ত কার্যকর করা সম্ভব নয়। সরকারি সূত্র জানায়, বিগত নির্বাচনে বেশির ভাগ কর্মকর্তাই এআরও ছিলেন। তাই “কেউ ডিসি হবেন, কেউ বঞ্চিত হবেন কেন?”—এই প্রশ্নে শর্ত বাতিল করা উচিত বলে মনে করছেন তারা।
উল্লেখ্য, বিসিএস ২৫তম ও ২৭তম ব্যাচের প্রশাসন ক্যাডারের দুজন কর্মকর্তাকে ডিসি করা হয়েছে, যাঁদের একজন ২০১৪ সালের, অন্যজন ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে এআরও ছিলেন। এ নিয়ে প্রশাসনের মধ্যে তর্ক ও আলোচনা চলছে।
সাবেক নির্বাচনে প্রশাসন ও পুলিশের কর্মকর্তাদের আওয়ামী লীগ সরকারের সহযোগী হিসেবে কাজ করার অভিযোগ থাকায় বিএনপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দল তাদের এবারের নির্বাচনে না রাখার দাবি জানিয়ে আসছে।