ভারতের হায়দরাবাদের শেষ নিজাম মীর ওসমান আলী খান ছিলেন তৎকালীন বিশ্বের অন্যতম ধনী ব্যক্তি। তাঁর মণিমুক্তার ভান্ডার নিয়ে প্রচলিত নানা গল্প আছে। ব্রিটিশরা ভারতের রাজধানী কলকাতা থেকে দিল্লিতে স্থানান্তরিত করার সময় নিজাম ওসমান আলী খান তাঁর ঐশ্বর্য প্রদর্শনের এক সুযোগ পেয়ে যান।
দিল্লিতে নতুন রাজধানীর নকশা চলাকালীন সময়ে রাজ্যগুলোর মহারাজারা নিজেদের স্বকীয়তা দেখাতে চেয়েছিলেন। তৎকালীন ভাইসরয়ও এ বিষয়টি স্বাগত জানিয়েছিলেন। হায়দরাবাদের নিজামও দিল্লিতে নিজের প্রাসাদ নির্মাণের আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। তবে ব্রিটিশরা পাঁচজন মহারাজাকে ভাইসরয়ের বাড়ি থেকে কিছু দূরে জমি বরাদ্দ দেন। এ রাজ্যগুলোর মধ্যে হায়দরাবাদ, বরোদা, পাতিয়ালা, জয়পুর ও বিকানার অন্তর্ভুক্ত ছিল।
নয়াদিল্লিতে নির্মিত প্রাসাদগুলোর মধ্যে হায়দরাবাদ হাউস ছিল সবচেয়ে বড় ও জাঁকজমকপূর্ণ। পাঁচ মহারাজার মধ্যে হায়দরাবাদের নিজাম ও বরোদার গায়কোওয়াড় প্রাসাদের নকশার জন্য ব্রিটিশ স্থপতি এডউইন লুটিয়েন্সকে নিয়োগ দেন। তবে লুটিয়েন্সের নকশায় ভাইসরয়ের বাড়ির মধ্যভাগের গম্বুজ ব্যবহার করা হয় এবং প্রজাপতির আকৃতিতে প্রাসাদটি তৈরি করা হয়।
হায়দরাবাদ হাউসে মোট ৩৬টি কক্ষ রয়েছে। এতে রয়েছে রাজকীয় সিঁড়ি, ফায়ারপ্লেস, ফোয়ারা এবং উন্মুক্ত আঙিনা। প্রাসাদটির স্থাপত্যে ইউরোপীয় শৈলীর পাশাপাশি মোগল যুগের প্রভাব দেখা যায়। প্রবেশপথের ওপরে থাকা গম্বুজ এবং বৃত্তাকার খিলান ইটালির রোম ও ফ্লোরেন্সের স্থাপত্য থেকে অনুপ্রাণিত।
এই প্রাসাদ কয়েক দশক ধরে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এখানে ইতোমধ্যে বিল ক্লিনটন, জর্জ ডব্লিউ বুশ, গর্ডন ব্রাউন এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন থেকেছেন। হায়দরাবাদ হাউস নয়াদিল্লির ১ নম্বর অশোক রোডে অবস্থিত এবং ভারতের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও বৈঠক স্থাপনার নিকটে অবস্থান করছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন হায়দরাবাদ হাউসে রয়েছেন, যেখানে ঐতিহাসিক প্রাসাদটি তাদের সফরের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
