১৯৬৯ সালের ২০ জুলাই প্রথমবার চাঁদে পা রেখেছিল মানুষ। প্রায় ৫৫ বছর পর আবারও চাঁদে মানুষের মিশন পাঠানোর প্রস্তুতি শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। নাসা জানিয়েছে, আর্টেমিস প্রোগ্রামের আওতায় ২০২৭ সালে আর্টেমিস ৩ মিশনের মাধ্যমে নভোচারীরা চাঁদের মাটিতে পৌঁছাবে। চীনেরও লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে মানুষের অভিযান।
নাসা সম্প্রতি আর্টেমিস ২ মিশনের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। এটি একটি পরীক্ষামূলক মিশন যেখানে চারজন নভোচারী চাঁদের কক্ষপথে ঘুরবেন। মূল লক্ষ্য হলো চাঁদে অবতরণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ও জীবনের সহায়ক ব্যবস্থা পরীক্ষা করা। আর্টেমিস ২ মিশনের উৎক্ষেপণ সম্ভাব্য ২০২৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি।
আর্টেমিস প্রোগ্রামের লক্ষ্য শুধু চাঁদে মানুষের পৌঁছানো নয়, বরং সেখানে স্থায়ী উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে মঙ্গলে পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি তৈরি করা। এতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সহযোগিতাও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
আর্টেমিস ৩ মিশনে নভোচারীরা চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে অবতরণ করবেন। নাসা ইতিমধ্যেই ১৩টি সম্ভাব্য অবতরণ স্থানের নাম প্রকাশ করেছে, যার মধ্যে ক্যাবিউস বিয়ের শিখর, ম্যালাপার্ট ম্যাসিফ ও মনস মাউটনসহ বিভিন্ন পাথুরে এলাকা রয়েছে। দক্ষিণ মেরুর এই অঞ্চলে স্থায়ীভাবে ছায়াযুক্ত এলাকা রয়েছে, যেখানে পানির উপস্থিতি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
নাসার আর্টেমিস ২ মিশনের নভোচারী হলেন কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান, পাইলট ভিক্টর গ্লোভার, মিশন-স্পেশালিস্ট ক্রিস্টিনা কোচ এবং কানাডিয়ান নভোচারী জেরেমি হ্যানসেন। এ মিশন প্রায় ১০ দিন চলবে এবং চারজন নভোচারী পৃথিবী থেকে চাঁদের ৭ হাজার কিলোমিটার দূরত্ব পর্যন্ত পৌঁছাবেন।
চাঁদে মানব অভিযানকে আরও সহজ করতে নাসা আর্টেমিস ৪ মিশনের মাধ্যমে চাঁদের কক্ষপথে একটি মহাকাশ স্টেশন স্থাপন করার পরিকল্পনা করছে। এই স্টেশন ভবিষ্যতে চাঁদে অবতরণ এবং মঙ্গল অভিযানের জন্য সহায়ক প্রযুক্তি প্রদর্শন করবে।
চাঁদে আবারো মানুষের আগমন বিজ্ঞানীদের জন্য নতুন গবেষণার সুযোগ তৈরি করবে। দক্ষিণ মেরুর অনাবিষ্কৃত এলাকা থেকে খনিজ ও জল সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এছাড়া চাঁদের দক্ষিণ মেরুর পরিবেশ অ্যাপোলো অভিযানের পূর্ববর্তী স্থান থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন, যা নতুন বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানের সুযোগ দেবে।
প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জও আছে। স্পেসএক্সের স্টারশিপ রকেট চাঁদে অবতরণের জন্য ব্যবহৃত হবে। ইতিমধ্যেই আগস্টে সফল ফ্লাইট সম্পন্ন হয়েছে, তবে কক্ষপথে জ্বালানি সরবরাহ এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত বিষয় এখনো সমাধান করতে হবে।
মন্তব্য করুন