---
### কেমন আছে আফগানিস্তান –
**কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ২০ বছরের যুদ্ধ জিতল তালেবান**
*শুভজিৎ বাগচী, প্রকাশ: ১৪ নভেম্বর ২০২৫*
২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা জোটের বিরুদ্ধে বিশ বছরের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শেষে আফগানিস্তানে ক্ষমতায় ফিরে আসে তালেবান। কেউ কেউ একে বলছেন ‘দ্বিতীয় তালেবান শাসন’। পাঁচ বছর পর দেশটি কেমন আছে, তা জানতে সাংবাদিক শুভজিৎ বাগচী ঘুরে দেখেছেন আফগানিস্তান।
---
#### পোরাখ গ্রামের গল্প
কাবুলের লাগোয়া লোগার প্রদেশের পুল-এ-আলম জেলার পোরাখ গ্রাম—তালেবান বিজয়ের এক প্রতিচ্ছবি। গ্রামের প্রবীণ ইঞ্জিনিয়ার মহম্মদ তাহের স্তানিকজাই ভারতের দেরাদুনে কৃষিবিদ্যা পড়েছেন, তাঁর ভাই রুহুউল্লাহ স্তানিকজাই এক সময় তালেবান যোদ্ধা ছিলেন।
২৪ অক্টোবর এক বিবাহ অনুষ্ঠানে খাওয়াদাওয়া শেষে তাঁরা লেখককে নিয়ে যান গ্রামের কবরস্থানে। সেখানে রুহুউল্লাহর ২০ বছর বয়সী ছেলে হামদুল্লাহর কবর। ২০১৮ সালে ওয়ার্দাক প্রদেশে মার্কিন বিমান হামলায় নিহত হন তিনি।
রুহুউল্লাহর চোখে জল, তবু তিনি বলেন—“ছেলের মৃত্যু বৃথা যায়নি, আমরা জয়লাভ করেছি।” এই বাক্যটি আজকের আফগানিস্তানের বাস্তবতাকে ধারণ করে—**“আমরা জয়লাভ করেছি”** এখন যেন দেশের নতুন জাতীয় স্লোগান।
---
#### যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি
যুক্তরাষ্ট্রের ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের *Cost of War Project* অনুসারে, ২০০১–২০২১ সাল পর্যন্ত আফগানিস্তানে নিহত হয়েছেন প্রায় **১.৭৬ লক্ষ মানুষ**—এর মধ্যে ৪৬ হাজারের বেশি বেসামরিক। সেনা ও পুলিশ ৬৯ হাজার, আর কমপক্ষে ৫২ হাজার বিদ্রোহী যোদ্ধা মারা গেছেন। পরোক্ষভাবে (ক্ষুধা ও রোগে) আরও প্রায় **৩.৬ লক্ষ মানুষ** প্রাণ হারিয়েছেন। অর্থাৎ, ২০ বছরে আফগান জনসংখ্যার প্রায় অর্ধ শতাংশ নিশ্চিহ্ন হয়েছে যুদ্ধের কারণে।
---
#### কান্দাহারের ফিদা মহম্মদের পরিবার
লেখক পরে যান কান্দাহারে, যেখানে দেখা হয় এক পা হারানো কৃষক **ফিদা মহম্মদের** সঙ্গে। ২০০৬ সালের এক রাতে মার্কিন বিমান হামলায় তাঁর ১৪ জন স্বজন নিহত হন, দু’জন সন্তানসহ। তিনি বলেন, “আমার বাঁ পা হারিয়েছি, কিন্তু ওই রাতে আমার ঘরটাই ধ্বংস হয়ে গেছে।”
এই ধ্বংসযজ্ঞের স্মৃতি আফগানদের এক করেছে—তালেবান, তাজিক, হাজারা, উজবেক—সব জাতিগোষ্ঠী আপাতত যুক্তরাষ্ট্রের পুনরায় হস্তক্ষেপের বিরোধিতায় ঐক্যবদ্ধ।
---
#### আপাত ঐক্য ও ভবিষ্যৎ
সম্প্রতি সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বাগরাম ঘাঁটি পুনর্দখলের ইঙ্গিত দিলে পুরো আফগানিস্তান একজোট হয়ে এর বিরোধিতা করে। ইসলামি আমিরাতের পাশে দাঁড়ায় প্রতিবেশী দেশগুলোও—ভারত, পাকিস্তান, রাশিয়া ও চীন।
বিশ বছরের বোমা হামলা, গুম, রাতের অভিযানে লাখো মৃত্যুর অভিজ্ঞতা আফগানদের এক করেছে—কমপক্ষে আপাতত। ইসলামের বন্ধনে গাঁথা এই ঐক্যের ভিত্তি গড়ে দিয়েছেন মোল্লা ওমর ও তাঁর নেতৃত্বাধীন তালেবানরা।
তবে এই জয়ের পেছনে সামরিক ও কৌশলগত আরও অনেক কারণ আছে, যা জানা যাবে পরের পর্বে—তালেবান যোদ্ধা আখতার জান ও যুদ্ধ বিশ্লেষক আসাদুল্লাহ নাদিমের বয়ানে।
---