বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে প্রথম শ্রেণির ক্যাডার এবং পেশাগত বা কারিগরি পদে নিয়োগ দিয়ে থাকে। একসময় এই পরীক্ষার প্রতি আগ্রহ সীমিত থাকলেও এখন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের বড় অংশই মূল একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি বিসিএসকেই মূল লক্ষ্য হিসেবে নিচ্ছেন।
বিসিএসের তিন ধাপের পরীক্ষায় (প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক) উত্তীর্ণ হয়েও বহু প্রার্থী পদস্বল্পতার কারণে নিয়োগ পান না। তাঁদের জন্য ২০১০ সালে নন–ক্যাডার নিয়োগের বিধি করা হয়। এতে একই বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমেই নবম থেকে দ্বাদশ গ্রেড পর্যন্ত নন–ক্যাডার পদে নিয়োগ সম্ভব হয়।
৩৪তম থেকে ৪১তম বিসিএস পর্যন্ত কয়েক হাজার প্রার্থী নন–ক্যাডার পদে চাকরি পান। তবে ৪৩তম বিসিএসে এই সংখ্যা কমে দাঁড়ায় মাত্র ৬৪২-এ। সংকটের মূল কারণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে ২০২৩ সালের নতুন বিধি, যেখানে ক্যাডার ও নন–ক্যাডার ফল একসঙ্গে প্রকাশ এবং বিজ্ঞপ্তিতে শূন্য পদ উল্লেখ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ফলে আগের মতো পরবর্তী সময়ে নতুন চাহিদা অনুযায়ী নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ থাকছে না।
চাকরিপ্রত্যাশীদের দাবি—২০২৩ সালের নতুন বিধি বাতিল করে পুরোনো নিয়ম পুনর্বহাল করা এবং নন–ক্যাডার নিয়োগকে আরও উন্মুক্ত করা দরকার। পিএসসির সাবেক সদস্যরাও মনে করেন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে সরাসরি নিয়োগ কমিয়ে বিসিএস নন–ক্যাডার নিয়োগ বাড়ালে দুর্নীতি কমবে এবং মেধাবীরা বেশি সুযোগ পাবেন।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, বর্তমানে সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ৪ লাখ ৬৮ হাজারের বেশি পদ শূন্য রয়েছে। তবে একসঙ্গে সব পদ পূরণ সম্ভব নয়। তাই নিয়মিত বিসিএস পরীক্ষা ও দ্রুত ফল প্রকাশের মাধ্যমে প্রার্থীদের দীর্ঘ অপেক্ষা কমানোই সবচেয়ে কার্যকর সমাধান হতে পারে।
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ