টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র: কত দূরে আঘাত করতে পারে এবং রাডারে কেন ধরা পড়ে না
টমাহক হলো যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি দীর্ঘ-পাল্লার ক্রুজ মিসাইল, যা সাধারণত যুদ্ধজাহাজ বা সাবমেরিন থেকে ছোড়া হয়। এটি নির্দিষ্ট স্থানে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে সক্ষম এবং কারণে-আচরণে সমসাময়িক ভূ-প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কাছে এক প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়ায়।
টমাহকের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে নিচু উচ্চতায় তাল ঢেউ-প্রাকৃতিক ভৌগোলিক ঢাল ব্যবহার করে বাধ্যতামূলকভাবে উড্ডয়ন করা — ফল হিসেবে রাডার দ্বারা সহজে ধরা পড়ে না। এতে উন্নত জিপিএস ও ইনর্শিয়াল নেভিগেশন সিস্টেম থাকে, যা টার্গেটে পৌঁছানোর সময় ত্রুটিকে প্রায়শই মাত্র দশ মিটারর মত সীমায় রাখে। প্রথমবার ব্যবহার করা হয়েছিল ১৯৯১ সালের উপসাগরীয় (গালফ) যুদ্ধে; এরপর সিরিয়া ও অন্যান্য অভিযানে এটির ব্যবহার রেকর্ড আছে। সাম্প্রতিক সময়ে কিছু ঘটনার প্রতিবেদন অনুযায়ী ইরানে হামলাতেও টমাহক ব্যবহার করা হয়েছে।
পরিমাপগতভাবে টমাহক সাধারণত প্রায় ১,৫০০ থেকে ২,৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত উড়ে লক্ষ্যস্থল আঘাত করতে পারে — মডেল ও লঞ্চ প্ল্যাটফর্মের ওপর নির্ভর করে পরিসর ওঠানামা করে। একটির দৈর্ঘ্য আনুমানিক ১৮ ফুট, ওজন তিন হাজার পাউন্ডের বেশি, এবং এতে প্রায় এক হাজার পাউন্ড ওজনের বিস্ফোরক বসানো থাকে। একটির মূল্য সাধারণত কয়েক লক্ষ ডলারের পরিসরে।
টমাহকের কার্যকারিতা ও ভবিষ্যৎ ব্যবহার নিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন—নিচু উড়ে, ভূ-রূপ অবলম্বন করে চলার কৌশল এবং অত্যাধুনিক নেভিগেশন এটিকে রাডার-বৃহৎ সিস্টেমকে প্রতিবার সহজে প্রতিহত করার ক্ষমতা দেয় না; তবে প্রতিপক্ষের গতিময় প্রতিরক্ষা, উপগ্রহ-নির্ভর সনাক্তকরণ ও ইলেকট্রনিক-যুদ্ধ ব্যবস্থা হলে এগুলোও মোকাবিলা করা সম্ভব।
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ