নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় চলচ্চিত্র নায়ক ওমর সানী এবং দেশের আলোচিত সংগীতশিল্পী আসিফ আকবর—দুজনেই নিজ নিজ অঙ্গনে দীর্ঘদিন কাজ করলেও সম্পর্ক ছিল সৌহার্দ্যপূর্ণ। তবে ক্রিকেট–ফুটবল প্রসঙ্গে দেওয়া একটি মন্তব্য থেকে শুরু হওয়া আলোচনা দ্রুতই রূপ নেয় প্রকাশ্য দ্বন্দ্বে। টেলিভিশনের স্টুডিও থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—সবখানেই ছড়িয়ে পড়ে এই তুমুল বিতর্ক।
ইদানীং চলচ্চিত্রে নিয়মিত না থাকলেও ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত ওমর সানী ঢাকার অদূরে তাঁর রেস্টুরেন্টেই বেশির ভাগ সময় কাটান। অন্যদিকে ‘ও প্রিয়া তুমি কোথায়’ অ্যালবামের মাধ্যমে সংগীতাঙ্গনে আলোচনায় আসা আসিফ আকবর এখনো গানে সক্রিয়। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক নির্বাচিত হয়েছেন, যা তাঁর গণমাধ্যমে উপস্থিতিও বাড়িয়েছে।
এই নতুন অবস্থান থেকেই এক আলোচনায় আসিফ আকবর অভিযোগ করেন যে ফুটবলারদের কারণে দেশে ঠিকমতো ক্রিকেট আয়োজন সম্ভব হচ্ছে না। তাঁর ভাষায়, ফুটবলাররা উইকেট ভেঙে ফেলে এবং অনেক স্টেডিয়াম দখল করে ব্যবহার করছে। এ মন্তব্যকে ‘অশোভন ও দৃষ্টিকটু’ বলে তীব্র নিন্দা জানায় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)।
বাফুফের প্রতিক্রিয়ার পর ওমর সানী বলেন, ‘এসব চেয়ারের দোষ, ক্ষমতার।’ এরপরও কিছুদিন পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও আবারও উত্তাপ ছড়ায় ‘বিহাইন্ড দ্য ফেম উইথ আরআরকে’ পডকাস্টে। সেখানে আসিফ সরাসরি ওমর সানীকে উদ্দেশ করে ব্যক্তিজীবন নিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘তিনি চাপ–টাপ বিক্রি করেন… সংসার ঠিকমতো করতে পারছেন না… নারী–শাসিত পুরুষ… ফেসবুকই তাঁর ভরসা।’
এ মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। অনেকেই একজন শিল্পীর ব্যক্তিজীবনকে আক্রমণ করা ‘অপেশাদার আচরণ’ বলে মন্তব্য করেন।
এর জবাবে আজ সোমবার সকালে ওমর সানী একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন। ওমরাহ পালন করতে সৌদি আরব যাওয়ার আগে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে তিনি বলেন, ‘ব্যক্তিজীবন নিয়ে কথা বলার দরকার ছিল না। আমি ওর পরিবার নিয়ে কিছু বলিনি। কিন্তু আসিফ আমাকে নারী–শাসিত বলেছে! মৌসুমীকে জিজ্ঞেস কর, আমার অবস্থান কোথায়।’ তিনি আরও বলেন, ‘তুই চাইলে সামনে এসে কথা বলিস। ভদ্রভাবে কথাই বলেছি সবসময়।’
ভিডিওতে একপর্যায়ে ওমর সানী আরও কঠোর সুরে বলেন, ‘তুই আর্জেন্টিনা–ব্রাজিল নিয়ে বাজে কথা বলিস। তোর ব্যক্তিত্ব আছে? তুই আমার আর মৌসুমীর সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলতে পারবি?’ সবশেষে তিনি আসিফকে পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘ভালো হ, ভদ্র হ। ব্যক্তিজীবন নিয়ে কথা বলিস না। এগুলো ভালো না।’
এভাবেই ক্রিকেট–ফুটবল প্রসঙ্গে শুরু হওয়া বিতর্ক এখন রূপ নিয়েছে দুই তারকার ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বে। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখনো তুঙ্গে।
মন্তব্য করুন