ঢাকা: জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাবিত জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন সংক্রান্ত সুপারিশ রাজনীতিতে অনৈক্য ও বিভাজন বাড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও উন্নয়ন অন্বেষণের চেয়ারপারসন রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ‘প্রস্তাবিত জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫: নাগরিক প্রত্যাশা ও জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। বৈঠকের আয়োজন করেছে ‘নাগরিক কোয়ালিশন’, যেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাসহ নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বেশ কটি প্রস্তাবের বিষয়ে ন্যূনতমও ঐকমত্য তৈরি হয়নি এবং প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যাও প্রদান করা হয়নি। এতে রাজনীতিতে অনৈক্য এবং বিভাজন বাড়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু রাজনৈতিক দল এই অনৈক্যের সুযোগ নিয়ে নিজেদের সংস্কারপন্থী অবস্থান দেখাতে চাইছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, কমিশন দুটি বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছে, যা স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতির উপর নির্ভরশীল। তবে বিশ্বের কোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এ ধরনের পদ্ধতি নেই, যা গণতন্ত্রের প্রতি অবজ্ঞা প্রকাশ করে। প্রস্তাবিত গণভোট বিষয়ক প্রক্রিয়া এত জটিল যে সাধারণ ভোটারের জন্য বোঝা কঠিন হবে।
গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, সরকার ও কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর হাতে দায়িত্ব চাপিয়ে দিয়ে জটিল পরিস্থিতি তৈরি করেছে। নোট অব ডিসেন্ট বাদ দেয়ার বিষয়টি গণতান্ত্রিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।
বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে এক সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্তের জন্য। দীর্ঘদিন চলা কমিশনের প্রয়োজনীয়তা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শিশির মনির মন্তব্য করেন, নোট অব ডিসেন্ট বাদ দেয়ার বিষয়ে বিএনপি অভিযোগ করেছে, তবে এটি প্রতারণা নয়, বরং নীতিগত সিদ্ধান্ত।
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ বলেন, সকল রাজনৈতিক দল একসঙ্গে না হলে সংকট সমাধান সম্ভব নয়। যেসব সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে একমত হয়েছে, সেগুলো নিয়ে আন্তরিকতা থাকলে নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে জটিলতা সৃষ্টি করা প্রয়োজন নেই।
বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নাগরিক কোয়ালিশনের সহ-আহ্বায়ক ফাহিম মাশরুর। বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আসিফ মোহাম্মদ শাহান, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান, এবং বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ হাসিব উদ্দিন হোসেন প্রমুখ।
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ