‘বিশ্বমানের ক্যানসার চিকিৎসা এখন বাংলাদেশে’—শীর্ষক এক অনলাইন আলোচনায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সচেতনতা ও নিয়মিত স্ক্রিনিং অত্যন্ত জরুরি।
গত বুধবার অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে মূল বক্তা ছিলেন জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের চিফ মেডিকেল অফিসার ডা. মো. নাহিদ হোসেন। উপস্থাপনায় ছিলেন নাসিহা তাহসিন। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে এসকেএফ অনকোলজি, যা ক্যানসার চিকিৎসায় দেশব্যাপী সেবা দিয়ে যাচ্ছে।
ক্যানসারের ঝুঁকি ও কারণ
ডা. নাহিদ হোসেন বলেন, “যেকোনো ক্যানসারই কোষের অনিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধি থেকে শুরু হয়। স্তন ক্যানসারও তেমনই—যখন ব্রেস্ট টিস্যুর কোষগুলো অনিয়ন্ত্রিতভাবে বিভাজিত হতে থাকে।”
তিনি জানান, সাধারণত দুই ধরনের ব্রেস্ট ক্যানসার বেশি দেখা যায়—ডাক্টাল কারসিনোমা (দুধ বহনকারী নালি আক্রান্ত) এবং লোবুলার কারসিনোমা (দুধ উৎপাদনকারী গ্ল্যান্ড আক্রান্ত)।
ঝুঁকির কারণ দুটি ভাগে বিভক্ত—
-
জেনেটিক কারণ: যেমন BRCA1 ও BRCA2 জিনে মিউটেশন।
-
নন–জেনেটিক কারণ: স্থূলতা, হরমোন থেরাপি, দেরিতে সন্তান নেওয়া, সন্তানকে বুকের দুধ না খাওয়ানো, অ্যালকোহল গ্রহণ, উচ্চ ফ্যাটযুক্ত খাবার ইত্যাদি।
অল্প বয়সে মাসিক শুরু (১২ বছরের আগে) বা দেরিতে মেনোপজ (৫৫ বছরের পর) হওয়াও ঝুঁকি বাড়ায়।
স্ক্রিনিং কেন জরুরি
ডা. নাহিদ বলেন, “স্ক্রিনিং আসলে এমন ব্যক্তিদের জন্য, যাদের এখনো ক্যানসার হয়নি। প্রাথমিক অবস্থায় শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসা সহজ ও সফল হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।”
তিনি পরামর্শ দেন—
-
মাসিক শেষ হওয়ার ৩–৫ দিন পর ব্রেস্ট সেলফ এক্সামিনেশন করতে হবে।
-
মেমোগ্রাম ৪০ বছর বয়সের পর প্রতি বছর করা উচিত।
-
পরিবারের কারও ব্রেস্ট বা ওভারি ক্যানসারের ইতিহাস থাকলে আরও আগেই স্ক্রিনিং শুরু করা দরকার।
-
উচ্চ ঝুঁকির (High-risk) ক্ষেত্রে এমআরআই স্ক্যানও করা যেতে পারে।
স্তন ক্যানসারের স্টেজ ও চিকিৎসা
ক্যানসারের চিকিৎসায় স্টেজ জানা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে জানান ডা. নাহিদ।
-
স্টেজ ১ ও ২: সাধারণত অপারেশনের পর কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি বা হরমোন থেরাপি দেওয়া হয়।
-
স্টেজ ৩: প্রথমে কেমোথেরাপি দিয়ে টিউমার ছোট করে তারপর সার্জারি করা হয়।
-
স্টেজ ৪: ক্যানসার শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে; তখন কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি বা ইমিউনোথেরাপির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করা হয়।
তিনি আরও বলেন, “সব রোগীর কেমোথেরাপি লাগে না। এটি নির্ভর করে ক্যানসারের ধরন, হরমোন রিসেপ্টর স্ট্যাটাস এবং রোগীর শারীরিক অবস্থার ওপর।”
ক্যানসার চিকিৎসায় বাংলাদেশের অগ্রগতি
উপস্থাপক নাসিহা তাহসিন জানান, এসকেএফ অনকোলজি বাংলাদেশের প্রথম ইউজিএমপি ও অ্যানভিজা ব্রাজিল অনুমোদিত প্ল্যান্ট, যা ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার ২৭টি দেশে ওষুধ রপ্তানি করছে। সারা দেশে রয়েছে ৩৩টি সেবাকেন্দ্র, যেখান থেকে ক্যানসারের ওষুধ ঘরে বসে অর্ডার করাও সম্ভব।
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ