পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে সরকারি জমি বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলসহ ৪৭ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা তিনটি মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ এখন শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
ঢাকার বিশেষ জজ আদালত–৫–এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুনের আদালতে এ পর্যন্ত ৭৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার দুই মামলায় তিনজন সাক্ষ্য দেন এবং আদালত পরবর্তী সাক্ষ্য ও জেরার জন্য আগামী ৬ নভেম্বর দিন ধার্য করেন।
প্রথম মামলায় শেখ হাসিনাসহ ১২ আসামির বিরুদ্ধে দুদকের সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া সাক্ষ্য দেন। এদিন তাঁর জেরা শুরু হলেও শেষ হয়নি, যা ৬ নভেম্বর অব্যাহত থাকবে।
শেখ হাসিনা ও সজীব ওয়াজেদ জয়সহ ১৭ আসামির বিরুদ্ধে করা দ্বিতীয় মামলায় রাজউকের সাবেক পরিচালক তানজিল্লুর রহমান ও দুদকের সহকারী পরিচালক এস এম রাশেদুল হাসান সাক্ষ্য দেন। এখানেও তদন্ত কর্মকর্তার জেরা অসম্পূর্ণ থাকায় পরবর্তী দিন ধার্য হয়েছে।
তৃতীয় মামলায়, যেখানে শেখ হাসিনা ও তাঁর মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল আসামি, সেখানে আজ সাক্ষ্য হয়নি। এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আফনান জান্নাত কেয়ার সাক্ষ্যগ্রহণের জন্যও ৬ নভেম্বর দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর দেলোয়ার জাহান রুমি বলেন, “তিন মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তাদের সাক্ষ্য ও জেরা সম্পন্ন হলেই সাক্ষ্যগ্রহণের প্রক্রিয়া শেষ হবে।”
এই তিন মামলায় অভিযোগ রয়েছে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে সরকারি জমি নিজেদের অনুকূলে বরাদ্দ নিয়েছিলেন শেখ হাসিনা ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। তদন্ত শেষে দুদক গত ১০ মার্চ আদালতে তিন মামলার চার্জশিট দাখিল করে।
এর আগে গত ৩১ জুলাই বিশেষ জজ আদালত–৫ এই তিন মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ