মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর কয়েক বছর ধরে শিক্ষার্থীদের সংগ্রহ করা ‘মুক্তিযুদ্ধের প্রত্যক্ষদর্শী–ভাষ্য’ বই আকারে প্রকাশ করছে। নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও চেতনায় উদ্বুদ্ধ করতেই এই উদ্যোগ। শিক্ষার্থীরা পরিচিতজনদের সাক্ষাৎকার নিয়ে একাত্তরের স্মৃতি লিপিবদ্ধ করে পাঠায়। ফলে ইতিহাসচর্চায় এক ধরনের আন্তঃপ্রজন্ম বিনিময় তৈরি হয়েছে—জাদুঘর ইতিহাস তুলে ধরে, আর শিক্ষার্থীরা তুলে আনে নতুন তথ্য ও ব্যক্তিগত বর্ণনা। বিজয়ের মাস ডিসেম্বর উপলক্ষে নির্বাচিত ৩১টি ভাষ্য প্রকাশ করছে প্রথম আলো।
সংগ্রহকারী: জনি, সপ্তম শ্রেণি, বাঙ্গালহালিয়া উচ্চবিদ্যালয়, রাজস্থলী, রাঙামাটি
বর্ণনাকারী: প্রভাতী দেবী, বাঙ্গালহালিয়া, রাঙামাটি
সম্পর্ক: প্রতিবেশী
সেদিন রাতেও সবাই স্বাভাবিকভাবে খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিল। হঠাৎ ঘুম ভাঙল গোলাগুলির প্রচণ্ড শব্দে। আতঙ্কে কেউ জানালা খুলে বাইরে তাকানোর সাহস পাচ্ছিল না। অবশেষে প্রভাতী দেবী সাহস নিয়ে জানালা খুলে দেখেন বাইরে পাকিস্তানি সেনারা গুলি ছুড়ছে।
কিছুক্ষণ পর সেনারা তাঁদের দরজায় জোরে ধাক্কা দিতে থাকে। পরিবারটি ভয়ে দরজা খুলতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানি সেনারা দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে পড়ে এবং একে একে পরিবারের সবাইকে গুলি করে হত্যা করে—রেহাই পায়নি সাত বছরের ছোট ভাইটিও।
ভোর হওয়ার পর চারদিকে ছড়িয়ে থাকা লাশের মাঝে একমাত্র জীবিত ছিলেন প্রভাতী দেবী। পরিবারের সবাইকে যখন হত্যা করা হয়, তিনি খাটের নিচে লুকিয়ে ছিলেন। তাই প্রাণে বেঁচে যান।
নিজ হাতে মা–বাবা ও ভাইকে কবর দেওয়ার সেই দুঃসহ স্মৃতি আজও তাঁকে কাঁদায়। তিনি বলেন, “এক মুহূর্তে আমার জীবন পাল্টে গেল। কিছুই করতে পারলাম না আমার মা–বাবার জন্য।”
মন্তব্য করুন