আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়া দল আওয়ামী লীগকে শর্তহীনভাবে অথবা বিভিন্ন শর্ত সাপেক্ষে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার পক্ষে অধিকাংশ মানুষ মত দিয়েছেন—এমন তথ্য উঠে এসেছে প্রথম আলোর উদ্যোগে পরিচালিত এক জনমত জরিপে। জরিপটি পরিচালনা করেছে কিমেকারস কনসাল্টিং লিমিটেড।
জরিপে প্রশ্ন ছিল: গণ–অভ্যুত্থানে পতিত দল আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশগ্রহণ সম্পর্কে মানুষের মত কী?
উত্তরে পাওয়া যায়—
-
২৭.৮% মনে করেন, বিনা শর্তে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া উচিত।
-
২৬% মনে করেন, শাস্তি বা সংস্কারের পর অংশ নিতে পারে।
-
১৪.৮% মনে করেন, আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাইলে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া যেতে পারে।
-
বিভিন্ন শর্তে অংশগ্রহণের পক্ষে আছেন ০.৪%।
-
বিচার শেষে অংশগ্রহণের পক্ষে ০.১%।
-
সরাসরি অংশগ্রহণে সম্মতি দিয়েছেন ০.১%।
সব মিলিয়ে ৬৯.২% উত্তরদাতা কোনো না কোনোভাবে আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশগ্রহণকে সমর্থন করেছেন।
তবে দলটির বিজয়ের সম্ভাবনা নিয়ে মানুষের আস্থার ঘাটতি দেখা গেছে জরিপে।
নির্বাচনে কোন দল বেশি আসন পাবে—এ প্রশ্নে—
-
৬৫.৯% উত্তরদাতা বলেছেন বিএনপি,
-
২৫.৯% বলেছেন জামায়াতে ইসলামী,
-
৭.২% মনে করেন আওয়ামী লীগ সবচেয়ে বেশি আসন পাবে।
জরিপটি দেশের পাঁচটি নগর ও পাঁচটি গ্রাম/আধাশহরাঞ্চলে ১৮–৫৫ বছর বয়সী ১,৩৪২ জন মানুষের মতামতের ভিত্তিতে করা হয়। তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে ২১–২৮ অক্টোবর।
পরে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ও বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান। একই সঙ্গে চলতি বছরের মে মাসে অন্তর্বর্তী সরকার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে দলটির সব ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম স্থগিত করার ঘোষণা দেয়।
জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগের অনেক নেতা বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদন উল্লেখ করে। অন্যদিকে দলটির উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নেতা গ্রেপ্তার হন বলেও খবর আসে।
এই সমস্ত ঘটনার প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ, বিচারিক প্রক্রিয়া এবং আগামী নির্বাচনে দলের অংশগ্রহণ—এসব বিষয়ে জনমত জরিপে নানা মতামত উঠে এসেছে।
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ