Tanvir Khan
প্রকাশ : Dec 30, 2025 ইং
অনলাইন সংস্করণ

খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক যাত্রা: গৃহবধূ থেকে বাংলাদেশের শক্তিশালী নেতা ও নারী নেতৃত্বের প্রতীক

বাংলাদেশের রাজনীতিতে জিয়া পরিবারের আবির্ভাব নানা নাটকীয় ঘটনার মধ্য দিয়ে শুরু হয়, যার মূল সূচনা ঘটে ৭৫-এর পরের সংকট মোকাবিলায় জিয়াউর রহমানের ক্যারিশম্যাটিক নেতৃত্বের মাধ্যমে। দেশের পুনর্গঠন, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে তিনি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে সব জনগোষ্ঠীকে একত্রিত করে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন। সাহসিকতা এবং রূপান্তরমূলক নেতৃত্বের কারণে তিনি একজন ক্যারিশম্যাটিক নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন।

জিয়াউর রহমান হত্যার পর বাংলাদেশ আবারও নেতৃত্বের সংকটে পড়ে। সেই সময় গৃহবধূ বেগম খালেদা জিয়াকে বাধ্যতামূলকভাবে রাজনীতিতে আসতে হয়। বিএনপির রাজনীতি ঠিক শুরু না হতেই শেষ হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতিতে তিনি দলের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন এবং ধীরে ধীরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রভাবশালী ও গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।

১৯৮৩ সালে তিনি বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন এবং এরশাদবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় নেতৃত্ব দেন। রাজপথের আন্দোলন, বিবৃতি ও গ্রেপ্তার—সব মিলিয়ে তিনি জাতীয় রাজনীতির দৃশ্যমান মুখে পরিণত হন। ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার সাহসী সিদ্ধান্ত স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করে।

নব্বইয়ের দশকে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে নারীদের শিক্ষা ও ক্ষমতায়নের গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষায় মেয়েদের অংশগ্রহণ বাড়াতে স্কলারশিপ চালু করেন, বিশেষ করে গ্রামীণ মেয়েদের জন্য অর্থনৈতিক সহায়তা প্রদান করেন। তিনি বাংলাদেশের নারী নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত হন।

১৯৯১ সালে তিনি দেশের প্রথম নির্বাচিত নারী প্রধানমন্ত্রী হন এবং সংবিধানের ১২তম সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি শাসন থেকে সংসদীয় গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তন ঘটান। সামরিক শাসনের পর বহুদলীয় রাজনীতির পুনরুজ্জীবন, রাজনৈতিক দলগুলোর সাংগঠনিক পুনর্গঠন, সংসদীয় বিতর্ক ও বিরোধী রাজনীতির স্থান তৈরি—সবক্ষেত্রে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।

বেগম খালেদা জিয়ার রাজনীতি এক সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের প্রতীক। সাত দশক ধরে চলা রাজনৈতিক চাপ, কারাবরণ, অসুস্থতা—সবকিছুর মধ্যেও তিনি ছিলেন দৃঢ়, আত্মমর্যাদাশীল ও আপসহীন। বাংলাদেশের প্রথম নির্বাচিত নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ ও নেতৃত্বের এক অসামান্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, যা দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতেও তাৎপর্যপূর্ণ।

খালেদা জিয়ার চলে যাওয়া শুধু একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিদায় নয়, এটি একটি রাজনৈতিক প্রজন্মের অবসান এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি বেদনাময় দিন হিসেবে রয়ে যাবে। তাঁর নেতৃত্ব, সংগ্রাম ও আত্মত্যাগ পরবর্তী প্রজন্মের জন্য আলোর পথ দেখাবে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সরকার বিএনপির চাপে ডানে, জামায়াতের চাপে বাঁয়ে, এনসিপির চাপে

1

পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নে দৃঢ় প্রতিজ্ঞার আহ্বান ঊষাতন তালুক

2

স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষায় জাতীয় নির্বাচন অপরি

3

বিএনপি নেতাকে ১০ লাখ টাকার চেক দেওয়া কর্মীর হিসাবে মাত্র ৩ হ

4

শফিকুল আলম: তারেক রহমানের দেশে ফেরার সঙ্গে রাজনৈতিক শূন্যতা

5

চোট পাওয়ার দুই দিন পরও হাসপাতালে রয়েছেন আইয়ার, রয়েছেন নিবিড়

6

চট্টগ্রামে কাস্টমস কর্মকর্তার গাড়িতে হামলা: দুই আসামি গ্রেপ্

7

সজিব ওয়াজেদ জয় ইন্টারনেট বন্ধ করে হত্যাযজ্ঞের মাস্টারমাইন্

8

কিশোরগঞ্জে মাইক্রোবাসের ধাক্কায় মাদ্রাসা শিক্ষক নিহত

9

পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে দ্রুত আমদানির পরামর্শ ট্যারিফ কমিশনে

10

বিয়ারিং প্যাড নয়, ত্রুটি ছিল লাগানো ও তত্ত্বাবধানে: ডিএমটিসি

11

প্রথম আলো–ডেইলি স্টার ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের কার্যালয়ে হামলা

12

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পাকিস্তানের পতাকা আঁকার সময় শিক্ষার্থ

13

বিএনপি বা জামায়াতের সঙ্গে এখনো সমঝোতার সুযোগ দেখছে এনসিপি

14

শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত— মন্তব্য এস জয়

15

শাবিপ্রবির প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা ১৩ ও ১৪ জানুয়ারি

16

ব্রাজিল–আর্জেন্টিনার গ্রুপ কেমন হলো, কখন মুখোমুখি হতে পারে দ

17

অনিশ্চয়তায় বেনারসিপল্লি প্রকল্পগুলো

18

সেন্ট মার্টিনের ভঙ্গুর বাস্তুতন্ত্র: অনিয়ন্ত্রিত উন্নয়ন ও পর

19

তামিম ইকবালকে ঘিরে জটিলতা বাড়ছে, লিগ বর্জনে একজোট ৪৫ ক্লাব

20