পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে গান করে যাচ্ছেন বরেণ্য সংগীতশিল্পী রফিকুল আলম। সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে তাঁর চারটি নতুন গান, তৈরি হচ্ছে আরও কয়েকটি। মৌলিক গান, প্রযুক্তির প্রভাব, নতুন প্রজন্মের সংগীত এবং সংগীতজগতের বর্তমান বাস্তবতা নিয়ে কথা বলেছেন তিনি।
রফিকুল আলম বলেন, “আমি সব সময় নিজের মৌলিক গানকেই অগ্রাধিকার দিই। কিশোর কুমার বা অন্য কারও গান গেয়ে জনপ্রিয় হতে চাইনি। এখন মৌলিক গান টিকিয়ে রাখার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ প্রযুক্তি। গান তৈরি হয়, কিন্তু মানুষের কাছে পৌঁছাতে প্রযুক্তির উপর নির্ভর করতে হয়। আমরা গাইতে জানি, কিন্তু প্রযুক্তি চালানো জানি না।”
বর্তমান সংগীতপ্রবাহ সম্পর্কে তিনি বলেন, “এখন সহজ কথা ও সহজ সুরের গান বেশি হচ্ছে। আগে গানে উপমা, রূপকের ব্যবহার ছিল। সুরনির্ভর গানের জায়গায় এখন অনেকটাই বদল এসেছে।”
তরুণ শিল্পীদের প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্য, “যারা সত্যিকারের সাধক, তারা নীরবে কাজ করছে। তবে করপোরেট জগৎটা নিষ্ঠুর। তারা আবেগ বোঝে না—তাদের কাছে যুক্তি আর ব্যবসাই সব। ভাববে, রফিকুল আলমের পেছনে বিনিয়োগ করে লাভ কী! বরং চটুল গানে টাকা ঢাললেই বেশি প্রচার হবে।”
গানের মান ও শ্রোতাদের রুচি নিয়ে তিনি বলেন, “শ্রোতাদের দায়িত্ব অনেক। আগে তারা গান শুনে চিঠি লিখত, প্রশংসা করত। এখন সেই যোগাযোগ নেই। সমাজের অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক চাপও শ্রোতাদের মনোযোগ কমিয়ে দিয়েছে।”
রফিকুল আলম জানান, তিনি ২৮টি ভাষায় গান গেয়েছেন—প্রয়োজনের তাগিদে, শেখার জন্য নয়। বিভিন্ন দেশের দূতাবাস থেকে গান সংগ্রহ করে ভাষা আয়ত্ত করেছেন।
চলচ্চিত্রের গান বিষয়ে তিনি বলেন, “চলচ্চিত্রই এখন কমে গেছে, তাই গানের সংখ্যা কমছে। গল্পভিত্তিক সিনেমা কমে যাওয়ায় পূর্ণাঙ্গ গানও প্রায় হারিয়ে গেছে।”
নিজের প্রিয় গান সম্পর্কে তিনি বলেন, “আমার জীবনের সেরা গান ‘কখনো আমার মাকে’। শামসুর রাহমানের লেখা আর সত্য সাহার সুরে এই গান আমি ১৯৮৩ সালে গেয়েছিলাম। এর সুর ও কথার গভীরতা আজও আমাকে ছুঁয়ে যায়।”
ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি বলেন, “সংগীত নিজের শক্তিতে এগিয়ে যায়। তবে এখন বিশ্বজুড়ে মৌলিক গানের খরা চলছে। ফ্রান্স, ব্রিটেন, জার্মানির মতো দেশ থেকেও গত ২০ বছরে তেমন কোনো গান আসছে না। সবাই পুরোনো গান ভেঙেচুরে করছে কিছু।”
মন্তব্য করুন