নিউইয়র্ক নগরের মেয়র নির্বাচনের প্রচার শেষ হয়েছে। আগামীকাল মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ভোটের আগমুহূর্তে প্রকাশিত সর্বশেষ চারটি জরিপেই ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী জোহরান মামদানি এগিয়ে আছেন, যা তাঁকে স্পষ্টভাবে শীর্ষ অবস্থানে রেখেছে।
এমারসন কলেজ, মারিস্ট, কুইনিপিয়াক বিশ্ববিদ্যালয় ও সাফোক বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বশেষ জরিপগুলোয় দেখা গেছে, জোহরান তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যান্ড্রু কুমোর চেয়ে ১০ থেকে ২৫ শতাংশ পয়েন্ট পর্যন্ত এগিয়ে। রিপাবলিকান প্রার্থী কার্টিস স্লিওয়া রয়েছেন অনেক পিছনে।
গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এমারসন কলেজ/পিআইএক্স ১১/দ্য হিল জরিপে দেখা যায়, জোহরানের প্রতি ৫০ শতাংশ, কুমোর প্রতি ২৫ শতাংশ এবং স্লিওয়ার প্রতি ২১ শতাংশ ভোটারের সমর্থন রয়েছে। এই জরিপে জোহরানের সমর্থন গত মাসের তুলনায় ৭ শতাংশ বেড়েছে।
একই সময়ে মারিস্ট নিউইয়র্ক সিটি জরিপে দেখা গেছে, জোহরান কুমোর চেয়ে ১৬ পয়েন্ট এবং স্লিওয়ার চেয়ে ৩২ পয়েন্ট এগিয়ে। জরিপে সিদ্ধান্তহীন ভোটারের মধ্যেও জোহরান সবচেয়ে জনপ্রিয়, যেখানে ৪৮ শতাংশ তাঁদের ভোট দিতে আগ্রহী।
কুইনিপিয়াক বিশ্ববিদ্যালয়ের জরিপেও জোহরান এগিয়ে—তাঁর প্রতি ৪৩ শতাংশ সম্ভাব্য ভোটারের সমর্থন, কুমোর প্রতি ৩৩ শতাংশ এবং স্লিওয়ার প্রতি ১৪ শতাংশ। তবে সিদ্ধান্তহীন ভোটারের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় শেষ মুহূর্তে কিছুটা অস্থিরতা তৈরি হতে পারে বলে বিশ্লেষকদের মত।
অন্যদিকে সাফোক বিশ্ববিদ্যালয়ের জরিপে প্রতিযোগিতা কিছুটা ঘনিষ্ঠ হলেও জোহরান এখনো ১০ পয়েন্টে এগিয়ে আছেন (জোহরান ৪৪%, কুমো ৩৪%)। এই জরিপ অনুযায়ী, রিপাবলিকান প্রার্থী স্লিওয়ার ভোটই ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে, কারণ তাঁর ভোটারদের দ্বিতীয় পছন্দ হিসেবে অধিকাংশ কুমোকেই বেছে নিচ্ছেন।
জোহরান মামদানি নিউইয়র্কের কুইন্সের অ্যাস্টোরিয়া এলাকা থেকে রাজ্যের আইনসভার সদস্য। একজন ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্ট হিসেবে তিনি পুলিশ বাজেট কমানো ও ফিলিস্তিনের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার জন্য আলোচনায় আছেন। তরুণ ও সংখ্যালঘু ভোটারদের মধ্যে তাঁর সমর্থন তুলনামূলক বেশি।
আগাম ভোটে জোহরানও এগিয়ে আছেন। মারিস্ট জরিপে দেখা গেছে, নির্বাচনের দিন সরাসরি ভোট দেবেন এমন ভোটারদের মধ্যে ৪৩ শতাংশ জোহরানকে, ৩৩ শতাংশ কুমোকে এবং ১৮ শতাংশ স্লিওয়াকে ভোট দিতে চান।
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ