ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলায় এক হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে। গভীর রাতে শ্বশুরবাড়ি থেকে এক বাবা ও তাঁর সাত বছরের মেয়ের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গুরুতর আহত অবস্থায় স্ত্রীকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল মঙ্গলবার রাত দুইটা থেকে সাড়ে তিনটার মধ্যে উপজেলার ভুবনকুড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ আমিরখাঁকুড়া গ্রামে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি রক্তমাখা দা, একটি চিরকুট ও বিষের বোতল উদ্ধার করেছে।
নিহতরা হলেন শেরপুরের নালিতাবাড়ীর বাঘবেড় খিশাকুড়ি এলাকার রতন মিয়া (৩০) ও তাঁর মেয়ে নূরিয়া খাতুন (৭)। আহত স্ত্রী জুলেখা খাতুন (২৫) বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুরে পোশাক কারখানায় কাজ করার সময় রতন মিয়ার সঙ্গে হালুয়াঘাটের জুলেখা খাতুনের পরিচয় হয়। ২০১৬ সালে তাঁদের বিয়ে হয় এবং তাঁদের এক কন্যাসন্তান জন্ম নেয়। জুলেখা দুই বছর আগে গৃহকর্মীর কাজে দুবাই যান। সম্প্রতি ছুটি নিয়ে দেশে ফেরেন এবং পুনরায় বিদেশে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এ নিয়ে স্বামী–স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।
গতকাল সন্ধ্যায় রতন গাজীপুর থেকে শ্বশুরবাড়ি যান। রাত তিনটার দিকে প্রতিবেশীরা চিৎকার শুনে গিয়ে দেখতে পান, রতন ও মেয়ের গলাকাটা দেহ পড়ে আছে, আর জুলেখা গুরুতর আহত। স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।
হালুয়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুল ইসলাম বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত রহস্যজনক। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক কলহের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে।” নিহত রতনের শ্বশুর দুলাল মিয়া ও শাশুড়িকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, “প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যার ছাপ থাকলেও রতনের গলার আঘাত দেখে মনে হচ্ছে, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে। ঘটনার পেছনের কারণ ও দায়ীদের শনাক্তে পুলিশ তদন্ত করছে।”
মন্তব্য করুন