গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও সাংবাদিকতার জন্য এক কালো রাত হিসেবে চিহ্নিত হলো। শেখ হাসিনার চরম স্বৈরতান্ত্রিক শাসনের পতনের পর উচ্ছ্বসিত মানুষ স্বপ্ন দেখছিলেন বাক্স্বাধীনতার নিরাপদ ভুবনে। কিন্তু সেই স্বপ্ন ভেঙে পড়ল, যখন একদল উত্তেজিত জনতা ঢুকে প্রথম আলো এবং দ্য ডেইলি স্টারের অফিসে ভাঙচুর, লুটপাট ও আগুন ধরিয়ে দেয়।
সংবাদকর্মীরা অফিসে মৃত্যুর আতঙ্কে কাঁপছিলেন, আর হামলাকারীরা শোরগোল করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তখনই সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। ফলস্বরূপ, পত্রিকাগুলোর ভবন দ্রুত পুড়ে ছাই হয় এবং তাদের অনলাইন কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে যায়।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকেই গণতন্ত্রবিরোধী কিছু উগ্র দক্ষিণপন্থী গোষ্ঠী প্রথম আলোর বিরুদ্ধে পরিকল্পিত অপপ্রচার চালাচ্ছিল। অক্টোবর–নভেম্বরের মধ্যে এসব অপপ্রচারের চূড়ান্ত রূপ দেখা যায়। ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের পরও, হামলাকারীরা তাঁর নাম ব্যবহার করে প্রথম আলোর ওপর আক্রমণ চালায়।
প্রথম আলোর ওপর আক্রমণ নতুন নয়। ২০০৯ সাল থেকে আওয়ামী লীগ সরকার ও তার সমর্থকরা সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর চাপ প্রয়োগ করে আসছিল। সম্পাদক মতিউর রহমান এবং সংবাদকর্মীরা মামলা, হুমকি ও অন্যান্য চাপের মুখোমুখি হয়েছিলেন। ২০১৪ সালের একতরফা নির্বাচনের পর আক্রমণ আরও তীব্র হয়। ২০১৫ সালে সরকার প্রথম আলোর বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ করে অর্থনৈতিকভাবে পত্রিকাকে দুর্বল করার চেষ্টা করে।
হাসিনার শাসনের শেষ পর্যায়ে প্রথম আলোর সম্পাদকের ওপর এবং কার্যালয়ের ওপর প্রবল চাপ প্রয়োগ করা হয়েছিল। সাভারের প্রতিবেদক শামসুজ্জামানকেও মামলা দিয়ে জেলে পাঠানো হয়েছিল।
কিন্তু কঠিন বিপর্যয়ের মধ্যেও প্রথম আলো সাহসী সাংবাদিকতা অব্যাহত রেখেছে। স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, অসাম্প্রদায়িকতা, মানবাধিকার ও মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধে প্রতিষ্ঠিত সম্পাদকীয় নীতি মেনে পত্রিকাটি পাঠকের আস্থা ধরে রেখেছে।
হামলার পরও পাঠক এবং দেশের মানুষ প্রথম আলোর পাশে দাঁড়িয়েছে। এই সমর্থন সাংবাদিকতার প্রতি দায়বদ্ধতাকে আরও দৃঢ় করেছে। প্রথম আলো প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যে, ভবিষ্যতেও সত্য প্রকাশ ও সাহসী সাংবাদিকতা অব্যাহত থাকবে।
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ